ঢাকা , শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাংবাদিকরা পজেটিভ লিখলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী স্মৃতির মৃত্যু ঘিরে রহস্য, পরিবারের দাবি হত্যা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘ব্যক্তিগত কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগ পেলেন মনিরুজ্জামান ছোটন ডাক্তারদের পছন্দ অনুযায়ী তাদের পোস্টিং দেয়া হবে– স্বাস্থ্য পরিবার মন্ত্রী মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সম্পাদক সুজন বর্মণ মান্দায় ভূমি সংক্রান্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বিপুল ভোটে বিজয়ী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল  উচ্ছ্বাসে ভাসছে নওগাঁ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ফজলে হুদা বাবুলকে নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জনের মৃত্যু নওগাঁর প্রসাদপুরে আত্রাই নদীর পাড়ে দুই ট্রাক্টর চালককে জরিমানা

কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী স্মৃতির মৃত্যু ঘিরে রহস্য, পরিবারের দাবি হত্যা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৩৭৭ বার পড়া হয়েছে

তানভীর আহমেদ : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬)-র মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ তুলে ঘটনার সঠিক বিচার ও হত্যা মামলা গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটিকে অপমৃত্যু দেখিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় এবং অভিযুক্তদের আটক না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

শনিবার (৭ মার্চ) লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছে মৃত স্মৃতির পরিবারের লোকজন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬) ও বাবুল মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (১৯) দুজনই একই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। সহপাঠী হওয়ার সুবাদে প্রায় এক বছর আগে থেকেই তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। এটি নিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা তাদের অনেক সময় বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে বন্ধু আকরামের ডাকে বাড়ি ছাড়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি। পরে তারা নিজেরাই বিয়ে করে আকরামের বাড়িতে বসবাস করছিল। বিষয়টি মেনে না নিয়ে অপহরণের অভিযোগ তুলে মেয়ের পরিবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

ছোটবেলা থেকেই স্মৃতি তার দাদুর বাড়িতে থাকত। অনেক আগেই তার পিতা-মাতার বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং তারা আলাদা স্থানে বসবাস করছেন। ফলে মেয়ের দেখাশোনা নিয়মিত কেউ করতেন না।

সর্বশেষ ৪ মার্চ বুধবার ভোরে আকরামের বাড়ি থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আকরামসহ তার পরিবারের সবাই গা ঢাকা দিয়ে আছে।

পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এম মহিবুর রহমান বলেন, তারা দুজনই ভালো শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। আমরা শিক্ষকরা অনেকবার তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করলেও সফল হইনি। এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতির মৃত্যুকে আমিও স্বাভাবিক মনে করছি না। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৃত স্মৃতির ফুফু তামজিমা আক্তার বলেন, এই মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মনে করছি না। প্রায় ৮ মাস আগে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। তখন আমরা একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার ঝুলন্ত লাশ দেখে আত্মহত্যার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শরীরে আঘাতের দাগ ছিল। আমরা হত্যা মামলা করতে গেলেও আমাদের মামলা নেওয়া হচ্ছে না। লাশ উদ্ধারের সময় একটি স্বাক্ষর নিয়ে এটিকে অপমৃত্যু মামলা দেখানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্মৃতির চাচা মতিউর রহমান, দাদী হোসনে আরা বেগম, আত্মীয় তারিকুর রহমান মিটন সহ অনেকেই৷

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে কল করলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলা নেওয়া হচ্ছে না—এ অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

সাংবাদিকরা পজেটিভ লিখলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী স্মৃতির মৃত্যু ঘিরে রহস্য, পরিবারের দাবি হত্যা

আপডেট সময় ০৬:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

তানভীর আহমেদ : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্কুল শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬)-র মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ তুলে ঘটনার সঠিক বিচার ও হত্যা মামলা গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটিকে অপমৃত্যু দেখিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় এবং অভিযুক্তদের আটক না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

শনিবার (৭ মার্চ) লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছে মৃত স্মৃতির পরিবারের লোকজন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬) ও বাবুল মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (১৯) দুজনই একই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। সহপাঠী হওয়ার সুবাদে প্রায় এক বছর আগে থেকেই তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। এটি নিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা তাদের অনেক সময় বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে বন্ধু আকরামের ডাকে বাড়ি ছাড়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি। পরে তারা নিজেরাই বিয়ে করে আকরামের বাড়িতে বসবাস করছিল। বিষয়টি মেনে না নিয়ে অপহরণের অভিযোগ তুলে মেয়ের পরিবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

ছোটবেলা থেকেই স্মৃতি তার দাদুর বাড়িতে থাকত। অনেক আগেই তার পিতা-মাতার বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং তারা আলাদা স্থানে বসবাস করছেন। ফলে মেয়ের দেখাশোনা নিয়মিত কেউ করতেন না।

সর্বশেষ ৪ মার্চ বুধবার ভোরে আকরামের বাড়ি থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আকরামসহ তার পরিবারের সবাই গা ঢাকা দিয়ে আছে।

পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এম মহিবুর রহমান বলেন, তারা দুজনই ভালো শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। আমরা শিক্ষকরা অনেকবার তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করলেও সফল হইনি। এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতির মৃত্যুকে আমিও স্বাভাবিক মনে করছি না। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৃত স্মৃতির ফুফু তামজিমা আক্তার বলেন, এই মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মনে করছি না। প্রায় ৮ মাস আগে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। তখন আমরা একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার ঝুলন্ত লাশ দেখে আত্মহত্যার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শরীরে আঘাতের দাগ ছিল। আমরা হত্যা মামলা করতে গেলেও আমাদের মামলা নেওয়া হচ্ছে না। লাশ উদ্ধারের সময় একটি স্বাক্ষর নিয়ে এটিকে অপমৃত্যু মামলা দেখানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্মৃতির চাচা মতিউর রহমান, দাদী হোসনে আরা বেগম, আত্মীয় তারিকুর রহমান মিটন সহ অনেকেই৷

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে কল করলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলা নেওয়া হচ্ছে না—এ অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখছি।